কবিতা-২১
"আমি দেখেছি আমাকে,তোমার ওই চোখে"
==============================
আমি দেখেছি আমাকে তোমার ওই চোখে,
যেভাবে সূর্য দেখে নিজেকে
ওই চাঁদের মাজে।
যেভাবে মৌমাছি খোজে মধু,ওই ফুলেরই মাজে।
যেভাবে তারকা খোজে চাঁদকে,ওই আকাশের মাজে।
দেখিয়াছি তোমাকে আমি,ওই ফুলেরই মাজে।
যেভাবে পাখি করে গান,ওই বৃক্ষের সাথে।
যেভাবে কৃষ্ণচূড়া দেখে নিজেকে,ওই মালির চোখে।
আমি দেখেছি আমাকে তোমার ওই চোখে।।
যেভাবে তোমার ওই কাজল কালো চোখ,
করেছে আপন,বেধেছে বৃন্দাবন।
যেভাবে করেছে আমায় মনটা তোমার,কতটা আপন।
যেভাবে স্বপ্নগুলো বেধেছে ঘর,হয়েছে রাশি রাশি,
সত্যি করে বলছে আমায় বড্ড ভালোবাসি।
দেখেছি আমায় নিয়ে মনের মাজে কতনা ছবি আঁকে।
আমি দেখেছি আমাকে তোমার ওই চোখে।।
কবিতা-২২
"হারিয়ে ফেলা স্মৃতি"
=============================
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মেঘ থেকে মেঘরাজের সৃষ্টি,
আকাশ ভাবতে পারছেনা কভু এ কেমনে সৃষ্টি।
করেছে আপন হবেনা পর,এ মেঘের প্রতিশ্রুতি,
মেঘ বিহনে আকাশ,হারিয়ে ফেলেছে কিছু স্মৃতি।
এসেছিল মেঘ ঐ আকাশের কাছে,
করিতে হৃদয় সমর্পন,
নিয়েছিল আকাশ আপন মনে,
মেঘের যত নিবেদন।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুলের মাজে মেঘ আকাশের পাল্টা গমন।
করেছিল আকাশ মেঘের মাজে তৈরী কিছু স্মৃতি,
মেঘ-আকাশ ভুলবেনা কভু তাদের আপন কৃতি।
-----এ ছিল দৃঢ় প্রতিশ্রুতি;
ক্ষনে ক্ষনে আকাশের মনে,
বেড়ে গেল মেঘের প্রতি টান,
বুজতে পারলনা কভু মেঘ কখনো,
আকাশের অভিমান।
আকাশের মাজে হারিয়েছি আমি,
আপন কিছু স্মৃতি,
মনের মাজে নিজের অজান্তে,
দেয় সে স্মৃতি উকি।
আমি হারিয়ে ফেলেছি কিছু স্মৃতি।।
তাড়া দেয় আমায় হারিয়ে ফেলা স্মৃতি,
হোকনা সে সময়ের বিবর্তন,
জানিনা তার মনে পড়ে কিনা,
আজও আমার এ ক্ষুদ্র মন।
করেছি আমি মেঘ-আকাশের মাজে,
আমার! আকাঙ্কার প্রতিফলন।
কবিতা-২৩
"ক্ষনিকের ঘন্টা"
=======================
এসেছিলাম একটি বইয়ের মাজে,
করিতে কিছু স্মৃতি আপন মনে।
ছেড়েছি ফ্যামিলীর হাত,
ঐ অদ্ভুদ ফেসবুকের ঘাত।
দিয়েছে কিছু স্মৃতি,না চাহিতে প্রিতি,
অদ্ভুত এই সোসার বুক,
নামটা তার ফেসবুক।
ফেসবুক হল বিশ্বখ্যাত,
ফেসবুকের মানুষগুলো বড় স্বার্থপর।
করেছি ত্যাগ আপন মনে ক্ষনিকের তরে,
জানিনা কবে ফিরে আসতে পারব তোমাদের মাজে।
কামনা করি শুভ তোমাদের তরে,
দোয়া করিও সবে আমার জীবনের প্রতি পদে পদে।
জানালাম বিদায় ক্ষনিকের ঘন্টা বাজিয়ে।।
কবিতা-২৪
"অভিমান"
==========================
কারে দিব দোষ বন্ধু, কারে দিব দোষ!
বৃথা কর আস্ফালন, বৃথা কর রোষ।
যারা শুধু মরে কিন্তু নাহি দেয় প্রাণ,
কেহ কভু তাহাদের করে নি সম্মান।
যতই কাগজে কাঁদি, যত দিই গালি,
কালামুখে পড়ে তত কলঙ্কের কালি।
যে তোমারে অপমান করে অহর্নিশ
তারি কাছে তারি 'পরে তোমার নালিশ!
নিজের বিচার যদি নাই নিজহাতে,
পদাঘাত খেয়ে যদি না পার ফিরাতে--
তবে ঘরে নতশিরে চুপ করে থাক্,
সাপ্তাহিকে দিগ্বিদিকে বাজাস নে ঢাক।
একদিকে অসি আর অবজ্ঞা অটল,
অন্য দিকে মসী আর শুধু অশ্রুজল।
কবিতা-২৫
"অটোগ্রাফ"
==================
খুলে আজ বলি, ওগো নব্য,
নও তুমি পুরোপুরি সভ্য।
জগৎটা যত লও চিনে
ভদ্র হতেছ দিনে দিনে।
বলি তবু সত্য এ কথা—
বারো-আনা অভদ্রতা
কাপড়ে-চোপড়ে ঢাক ‘তারে,
ধরা তবু পড়ে বারে বারে,
কথা যেই বার হয় মুখে
সন্দেহ যায় সেই চুকে।
ডেস্কেতে দেখিলাম, মাতা
রেখেছেন অটোগ্রাফ-খাতা।
আধুনিক রীতিটার ভানে
যেন সে তোমারই দাবি আনে।
এ ঠকানো তোমার যে নয়
মনে মোর নাই সংশয়।
সংসারে যারে বলে নাম
তার যে একটু নেই দাম
সে কথা কি কিছু ঢাকা আছে
শিশু ফিলজফারের কাছে।
খোকা বলে , বোকা বলে কেউ—
তা নিয়ে কাঁদ না ভেউ-ভেউ।
নাম-ভোলা খুশি নিয়ে আছ,
নামের আদর নাহি যাচ।
খাতাখানা মন্দ এ না গো
পাতা-ছেঁড়া কাজে যদি লাগ।
আমার নামের অক্ষর
চোখে তব দেবে ঠোক্কর।
ভাববে, এ বুড়োটার খেলা,
আঁচড়-পাঁচড় কাটে মেলা।
লজঞ্জুসের যত মূল্য
নাম মোর নহে তার তুল্য।
তাই তো নিজেরে বলি, ধিক্,
তোমারই হিসাব-জ্ঞান ঠিক।
বস্তু-অবস্তুর সেন্স্
খাঁটি তব, তার ডিফারেন্স্
পষ্ট তোমার কাছে খুবই—
তাই, হে লজঞ্জুস-লুভি,
মতলব করি মনে মনে,
খাতা থাক্ টেবিলের কোণে।
বনমালী কো-অপেতে গেলে
টফি-চকোলেট যদি মেলে
কোনোমতে তবে অন্তত
মান রবে আজকের মতো।
ছ বছর পরে নিয়ো খাতা,
পোকায় না কাটে যদি পাতা।
কবিতা-২৬
"আমাকে ভালোবাসতে হবেনা"
=====================
আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না.
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না।
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না,
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না. কিংবা বিকেল বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না. এত
অসীম সংখ্যক “না”এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার “ভালবাসি” বলব
তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে “পাগলি”
কবিতা-২৭
"প্রলয়োল্লাস"
=========================
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখীর ঝড় !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল !
মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে
মহাকালের চণ্ড-রূপে—
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর !
ওরে ঐ হাসছে ভয়ঙ্কর !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঝামর তাহার কেশের দোলার ঝাপটা মেরে গগন দুলায়,
সর্ব্বনাশী জ্বালা-মুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায় !
বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে
রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে
দোদুল্ দোলে !
অট্টরোলের হট্টোগোলে স্তব্ধ চরাচর—
ওরে ঐ স্তব্ধ চরাচর !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
দ্বাদশ-রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন-কটায়,
দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গ তার ত্রস্ত জটায় !
বিন্দু তাহার নয়ন-জলে
সপ্ত মহা-সিন্ধু দোলে
কপোল-তলে !
বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর ‘পর—
হাঁকে ঐ “জয় প্রলয়ঙ্কর !”
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
মাভৈঃ মাভৈঃ ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে !
জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো ঐ বিনাশে !
এবার মহা-নিশার শেষে
আসবে ঊষা অরুণ হেসে
করুণ বেশে ।
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর,
আলো তার ভরবে এবার ঘর !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ যে মহাকাল সারথি রক্ত-তড়িত চাবুক হানে,
রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্র-গানে ঝড় তুফানে !
ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে ।
গগন-তলের নীল খিলানে !
অন্ধ কারার অন্ধ কূপে
দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে
পাষাণ-স্তূপে !
এই ত রে তার আসার সময় ঐ রথ-ঘর্ঘর—
শোনা যায় ঐ রথ-ঘর্ঘর !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ধ্বংশ দেখে ভয় কেন তোর ? — প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন ।
আসছে নবীন—জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন ।
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় ব’য়েও আসছে হেসে—
মধুর হেসে !
ভেঙে আবার গ’ড়তে জানে সে চির-সুন্দর !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তরে ডর ?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !—
বধূরা প্রদীপ তুলে ধর !
কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর !—
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১
কবিতা-২১